কক্সবাজার / টেকনাফ:
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার আড়ালে সীমান্ত এলাকায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে একটি ভয়ংকর অপহরণচক্র। শরণার্থী ক্যাম্প ও সংলগ্ন সীমান্ত এলাকাগুলোতে প্রতিনিয়ত এই চক্রের দৌরাত্ম্য ও অপতৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় চরম নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা এবং সাধারণ রোহিঙ্গারা। এই পরিস্থিতির আশু অবসান এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এবার আমরণ অনশন কর্মসূচি শুরু করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়রা।
প্রতিবেদনে জানা যায়, প্রত্যাবাসনের জটিল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অপরাধী চক্রটি সীমান্ত এলাকা ও ক্যাম্পগুলোতে নিজেদের জাল বিস্তার করেছে। কৌশলে সাধারণ মানুষকে জিম্মি ও অপহরণ করে বিপুল অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করা হচ্ছে। মুক্তিপণ না পেলে প্রাণনাশের মতো ঘটনাও ঘটছে, যা পুরো এলাকায় এক থমথমে ও আতঙ্কজনক পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
অপহরণ আতঙ্কের এই ধারাবাহিকতায় অতিষ্ঠ হয়ে ভুক্তভোগীরা জানান, প্রতিনিয়ত প্রাণভয়ে বেঁচে থাকা এখন অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে বারবার আবেদন জানিয়েও স্থায়ী কোনো সমাধান না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে তারা রাজপথে নেমেছেন। 'নিরাপত্তা চাই, অপহরণমুক্ত জীবন চাই'—এমন নানা দাবিতে অনশনকারীরা অনড় অবস্থান গ্রহণ করেছেন।
অনশনরত একাধিক ভুক্তভোগী বলেন, "আমরা আর কোনো আশ্বাস চাই না, আমরা স্থায়ী নিরাপত্তা ও এই অপহরণচক্রের পুরোপুরি মূলোৎপাটন চাই। যতদিন না আমাদের নিরাপত্তার সুনির্দিষ্ট নিশ্চয়তা দেওয়া হবে, ততদিন পর্যন্ত এই আমরণ অনশন চলবে।"
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করা এবং সীমান্ত অঞ্চলে অস্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রাখতে একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে এসব অপরাধ পরিচালনা করছে। দ্রুত সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার ও বিশেষ অভিযান চালিয়ে এই সিন্ডিকেটকে ধ্বংস করা না গেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অপহরণচক্রের সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে এবং ক্যাম্প ও আশপাশের এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে।



0 Comments