মিরপুরের বিজয় রাকিন সিটির ‘মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবার কল্যাণ সমিতি’ (রেজি. নং: ঢ-০৩৮১/৯৭)-এর বর্তমান প্রশাসক আবু মো. ইসতিয়াক আজিজ উলফতকে অবানcollaborator এবং অনতিবিলম্বে তার পদ থেকে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন সমিতির একাংশের সদস্যরা। একই সাথে তাকে সমিতিতে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক লিখিত যৌথ বিবৃতিতে সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নঈম জাহাঙ্গীর ভূঁইয়া ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. বেলায়েত হোসেন এই দাবি জানান।
বিবৃতিতে তারা উল্লেখ করেন, ১৯৯৭ সালে সমিতিটি সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে নিবন্ধিত হয় এবং ১৯৯৯ সালে জাতীয় হাউজিং কর্তৃপক্ষ সমিতির নামে ১৬ দশমিক ২ একর জমি বরাদ্দ দেয়। তবে পরবর্তীতে আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের সূচনালগ্ন থেকেই নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির সূত্রপাত হয়। দীর্ঘদিন ধরে চলা প্রশাসনিক জটিলতা, মামলা-মোকদ্দমা ও দায়িত্বপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় পরবর্তীতে সমাজসেবা অধিদপ্তর তদন্ত সাপেক্ষে তত্ত্বাবধায়ক কমিটি গঠন করে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বর্তমান প্রশাসক আবু মো. ইসতিয়াক আজিজ উলফতের বিরুদ্ধে মেয়াদ বাড়ানোসহ নানা অনিয়মের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়। তাদের দাবি, দায়িত্ব গ্রহণের পর নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন না দিয়ে প্রশাসক একাধিকবার নিজের মেয়াদ বাড়িয়ে নিয়েছেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, প্রশাসকের দায়িত্বে থাকাকালে সমিতির ব্যাংক হিসাব থেকে প্রায় এক কোটি টাকা উত্তোলন ও আত্মসাৎ, জোরপূর্বক অফিস দখল, ফ্ল্যাট বরাদ্দ ও ভাড়া সংক্রান্ত অনিয়ম, কয়েকশ ব্যক্তির কাছ থেকে সদস্যপদ দেওয়ার নামে অর্থ আদায় এবং সাধারণ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের ওপর মানসিক চাপ প্রয়োগের মতো ঘটনা ঘটেছে। তবে এসব অভিযোগের সমর্থনে তাৎক্ষণিকভাবে সংবাদমাধ্যমের কাছে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক নথিপত্র উপস্থাপন করা হয়নি।
সংগঠনটির সদস্যদের দাবি, সাধারণ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আবেদনের প্রেক্ষিতেই সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তাই বর্তমান প্রশাসকের বিরুদ্ধে ওঠা গুরুতর দুর্নীতি ও অনিয়মের নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করে তাকে অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। একই সাথে দ্রুত একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির হাতে সমিতির দায়িত্ব হস্তান্তরের জন্য সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রতি জোর আহ্বান জানান তারা।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রশাসক আবু মো. ইসতিয়াক আজিজ উলফতের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিকভাবে এখন পর্যন্ত কোনো বক্তব্য প্রদান করা হয়নি।



0 Comments