দীর্ঘ ১৫ মাসেরও বেশি সময় যুক্তরাজ্যে চিকিৎসা শেষে স্বল্প সময়ের জন্য স্বদেশে ফিরেছেন দেশবরেণ্য চিত্রনায়ক ও ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ (নিসচা)-এর চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন। তাঁর ফেরার খবরে সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের ভালোবাসায় সিক্ত হচ্ছেন তিনি। শনিবার (৮ আগস্ট) রাতে গুলশানে তাঁর বাসভবনে তাঁকে দেখতে যান বাংলা চলচ্চিত্রের দুই কিংবদন্তি অভিনয়শিল্পী—সুচন্দা এবং তাঁর ছোট বোন চম্পা।
রাত ৮টার দিকে সুচন্দা ও চম্পা ইলিয়াস কাঞ্চনের বাসায় পৌঁছান। সে সময় তিনি বিশ্রামে ছিলেন। পরে রাত ৯টার দিকে ছেলে জয় তাঁকে বসার ঘরে নিয়ে আসেন। দুই জ্যেষ্ঠ সহকর্মীকে সামনে দেখে হাসিমুখে অভ্যর্থনা জানান ইলিয়াস কাঞ্চন। সুচন্দা ও চম্পা তাঁকে পুষ্পস্তবক দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।
“আমরা আপনাকে ভালোবাসি”
আড্ডার একপর্যায়ে আবেগঘন পরিবেশে চম্পা বলে ওঠেন, “আমরা আপনাকে ভালোবাসি।”
উত্তরে বরেণ্য এই অভিনেতা হাসিমুখে বলেন, “আমিও ভালোবাসি সবাইকে। খুব ভালো লাগছে।” চম্পা কৌতুক করে কতটা ভালোবাসেন জানতে চাইলে দুই হাত প্রসারিত করে নিজের ভালোবাসার ব্যাপ্তি জানান কাঞ্চন। মুহূর্তেই পুরো ঘরে আনন্দের আবহ তৈরি হয়।
স্মৃতিচারণ ও জনপ্রিয় গানের সুর
ঘণ্টাব্যাপী এই আড্ডায় উঠে আসে ঢাকাই চলচ্চিত্রের সোনালী অতীত এবং সুচন্দা প্রযোজিত কালজয়ী সিনেমা ‘তিনকন্যা’র স্মৃতি। সুচন্দা ও চম্পার বিশেষ অনুরোধে গান ধরে বসে পড়েন ইলিয়াস কাঞ্চন। গাইলেন তাঁর অভিনীত ‘অচেনা’ সিনেমার কালজয়ী গান ‘আর যাব না আমেরিকা’-সহ কয়েকটি জনপ্রিয় সুর। এ সময় তাঁর সঙ্গে তাল মিলিয়ে কণ্ঠ মেলান দুই বোনও।
আড্ডার একপর্যায়ে ইলিয়াস কাঞ্চনের জন্য উপহার হিসেবে আনা পাঞ্জাবি এবং পবিত্র জমজমের পানি তাঁর হাতে তুলে দেন সুচন্দা। নিজ হাতে তাঁকে জমজমের পানি পান করান এবং লন্ডনে চিকিৎসা চলাকালে এই পাঞ্জাবিগুলো সঙ্গে রাখার অনুরোধ জানান।
“আমরা খুব চমৎকার কিছু সময় কাটিয়েছি এবং কাঞ্চনও এই আড্ডাটা খুব উপভোগ করেছে। পরম করুণাময় আল্লাহ যেন তাঁকে দ্রুত সম্পূর্ণ সুস্থ করে তোলেন—এই দোয়াই করি।” — সুচন্দা
চিকিৎসার আপডেট:
উল্লেখ্য, গত বছরের এপ্রিল থেকে লন্ডনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ইলিয়াস কাঞ্চন। ব্রেন টিউমারের অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসকেরা তাঁর শরীরে ব্রেন ক্যানসার শনাক্ত করেন। দীর্ঘ দিন ধরে কেমোথেরাপি নেওয়ার পর সাময়িক বিরতিতে দেশে এসেছেন তিনি। অল্প কিছুদিন পরই পরবর্তী ধাপের চিকিৎসার জন্য ফের লন্ডনে উড়াল দেবেন প্রবীণ এই অভিনেতা।

0 Comments