বর্তমান সরকার জুলাই সনদের ম্যান্ডেট ও জনগণের গণরায়ের তোয়াক্কা করছে না বলে অভিযোগ করেছে ১১ দলীয় জোট। জোটের নেতাদের দাবি, সরকার ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরি ও নতুন সংস্কার কাঠামোর মাধ্যমে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তা না করে দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণ করছে।
গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলের প্রতিনিধি জোটের পক্ষ থেকে এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে জোটের মুখপাত্র বলেন, “আমাদের গণঅভ্যুত্থানের ম্যান্ডেট ছিল—জুলাই সনদের মধ্য দিয়ে একটি নতুন সংস্কার কাঠামো গঠন করে নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা। কিন্তু আমরা দেখছি, এই সরকারের জনগণের গণরায়ের প্রতি কোনো শ্রদ্ধা নেই। তারা জুলাই সনদের বাস্তবায়নে কোনো সদিচ্ছা দেখাচ্ছে না, উপরন্তু বিচারব্যবস্থাসহ সকল প্রতিষ্ঠানকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছে।”
সরকারের বর্তমান ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে মুখপাত্র আরও বলেন, “গত ১৬ বছর ধরে আমাদের মূল লড়াই ছিল একটি শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তাবলম্বন ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থার জন্য। তবে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার বা নির্বাচন কমিশনের চালচলনে আমরা নিরপেক্ষতার অভাব দেখতে পাচ্ছি। ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের দাবি আমরা প্রথম দিন থেকেই করে আসছিলাম। অথচ তাকে ৬ মাস রেখে দিয়ে এখন ‘সেফ এক্সিট’ দেওয়া হচ্ছে, যা সরকারের সঙ্গে কোনো আন্ডারস্ট্যান্ডিংয়েরই প্রতিফলন বলে মনে হয়।”
পরবর্তী রাজনৈতিক পথনকশা ও ট্রানজিশনাল পিরিয়ড বা ক্রান্তিকালের অস্পষ্টতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “ছয় মাস সময় বাড়ানোর পেছনে কোনো গভীর ষড়যন্ত্র বা নিজস্ব ফায়দা রয়েছে কি না, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠছে। ৬ মাস পর যখন এই রাষ্ট্রপতি থাকবেন না, তখন সরকারের গঠন কিংবা পরবর্তী রাষ্ট্রপতির ভূমিকা কী হবে—তা জাতির সামনে স্পষ্ট করা হয়নি। অতীতেও এই ধরনের রাজনৈতিক অস্পষ্টতার সুযোগ নিয়ে একাধিক সামাজিক ও রাজনৈতিক সংকট তৈরি করা হয়েছে।”
সংকট নিরসনে ১১ দলের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতির শূন্য পদ ও পরবর্তী নির্বাচন নিয়ে একটি সুস্পষ্ট প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে। জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রাজনৈতিক ও রাজপথের অভিজ্ঞতার আলোকেও চলমান সংকট কাটিয়ে উঠতে ১১ দলীয় জোট রাষ্ট্রপতি পদে গণফোরামের প্রধান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী (বীর উত্তম)-কে তাঁদের প্রার্থী হিসেবে প্রস্তাব করছে।
১১ দলের নেতারা জানান, দেশের দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে তারা আগামীতেও অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও অংশীজনদের সঙ্গে এই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রাখবেন।

0 Comments