রাজধানীর নারী শিক্ষার অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান সেন্ট্রাল উইমেন্স কলেজের ৭০ বছর পূর্তি (প্ল্যাটিনাম জুবিলি) উৎসব শনিবার (২৯ আগস্ট) অত্যন্ত জমকালো ও বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী এলাকা টিকাটুলির ওয়ারীতে অবস্থিত কলেজ প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী এই উৎসবের আয়োজন করা হয়। উৎসবকে কেন্দ্র করে পুরো ক্যাম্পাস সাজানো হয় লাল-সবুজের মনোরম আলো ও বর্ণিল পতাকায়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, এমপি।
বিশেষ অতিথিদের উপস্থিতিতে প্রধান অতিথি জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং বেলুন উড়িয়ে প্ল্যাটিনাম জুবিলি উৎসবের আনুষ্ঠানিক শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, "১৯৫৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সেন্ট্রাল উইমেন্স কলেজ দীর্ঘ সাত দশক ধরে এই অঞ্চলের নারী শিক্ষা সম্প্রসারণ ও নারীদের আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতে এক অনন্য ভূমিকা পালন করে আসছে। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধেও এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অবদান অনস্বীকার্য।"
তিনি আরও বলেন, "বর্তমান সরকার নারীদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও ক্ষমতায়নে বদ্ধপরিকর। স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনে আমাদের নারী সমাজকে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় আরও এগিয়ে আসতে হবে। এই ঐতিহ্যবাহী কলেজটি আগামী দিনেও জ্ঞান ও আলোর মশাল জ্বালিয়ে সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখবে বলে আমি বিশ্বাস করি।"
অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল কলেজের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মহামিলন। নবীন-প্রবীণের এই মিলনমেলায় স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অনেক প্রবীণ শিক্ষার্থী দীর্ঘ কয়েক দশক পর প্রিয় ক্যাম্পাসে ফিরে শৈশবের স্মৃতিরোমন্থন করেন।
অনুষ্ঠানের বিশেষ দিকসমূহ:
- স্মারক উন্মোচন: দিনটি স্মরণীয় করে রাখতে একটি বিশেষ 'স্মারক গ্রন্থ' এবং স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন করা হয়।
- সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান: কলেজের শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় অনুষ্ঠিত হয় নান্দনিক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। দেশাত্মবোধক গান, নৃত্য ও নাটিকা পরিবেশনের মাধ্যমে বাংলাদেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরা হয়।
- গুণীজন সংবর্ধনা: কলেজের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে শিক্ষা বিস্তারে বিশেষ অবদান রাখা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও বিশিষ্ট প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়।
কলেজের অধ্যক্ষের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই উদযাপনী অনুষ্ঠানে অন্যান্য বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষাবিদ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। সন্ধ্যার চমৎকার আলোর খেলা এবং জনপ্রিয় সংগীতশিল্পীদের পরিবেশনায় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার মাধ্যমে দিনব্যাপী এই উৎসবের সমাপ্তি ঘটে।

0 Comments