সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের জন্য ঢাকা-১০ আসনে সমঝোতা করতে জামায়াতে ইসলামীর আমিরকে ফোন করেছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস—এমন চাঞ্চল্যকর ও বিস্ফোরক দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী (সচিব পদমর্যাদা) রাশেদ খাঁন। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এই দাবি তোলেন।
রাশেদ খাঁনের ভাষ্য অনুযায়ী, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতি ও চরম আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের কারণেই জামায়াত তাঁর সাথে আসন সমঝোতায় রাজি হয়নি। এমনকি প্রধান উপদেষ্টার সরাসরি অনুরোধও জামায়াতে ইসলামী প্রত্যাখ্যান করেছে।
‘আসিফ মাহমুদের দুর্নীতির দায় জামায়াত নেবে না’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে রাশেদ খাঁন লেখেন, “আসিফ মাহমুদ কোনো দুর্নীতি করে নাই! শুধু জিগ্যেস করেন জামায়াতের আমির কেন তাকে ঢাকা-১০ আসন ছাড়ে নাই?” তিনি দাবি করেন, এ বিষয়টি নিয়ে সাবেক উপদেষ্টা নাহিদ ইসলামও কারও কারও কাছে আক্ষেপ প্রকাশ করেছিলেন। অনেক দরকষাকষির পরও জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্ব আসিফ মাহমুদের পক্ষে নমনীয় হয়নি।
ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খাঁন আরও উল্লেখ করেন, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস নিজে জামায়াতের আমিরকে ফোন করে ঢাকা-১০ আসনটি আসিফ মাহমুদের জন্য ছাড়ার অনুরোধ করেছিলেন। তবে জবাবে জামায়াত আমির স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে থাকা বিতর্ক ও আর্থিক অনিয়মের দায়ভার তাঁদের দল নেবে না। রাশেদ খাঁনের দাবি অনুযায়ী জামায়াত আমির প্রধান উপদেষ্টাকে বলেন, “প্রয়োজনে আরও ২-৩টা আসন বেশি ছাড়বো, কিন্তু আসিফ মাহমুদের বিষয়ে আপনি অনুরোধ করিয়েন না।”
জামায়াত আমিরের এই অনড় ও কঠোর অবস্থানের প্রশংসা করে রাশেদ খাঁন বলেন, রাজনৈতিকভাবে তিনি জামায়াতের কড়া সমালোচক হলেও দুর্নীতির বিষয়ে আমিরের এই দৃঢ় ভূমিকার জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের এই ঘটনাটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাথে কথা বলে গভীরভাবে অনুসন্ধান করার আহ্বান জানান।
ক্ষমতার অপব্যবহার ও আর্থিক অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ
উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও বড় ধরনের আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন রাশেদ খাঁন। তিনি দাবি করেন, এসব তথ্য ন্যাশনাল সিটিজেনস পার্টি (এনসিপি)-র অধিকাংশ নেতাকর্মীর কাছেই ‘ওপেন সিক্রেট’।
দুদকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি লেখেন, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কোনো কর্মকর্তার বক্তব্যের কেবল শব্দের হেরফেরের কারণে আসিফ মাহমুদ দুর্নীতির দায় থেকে নিষ্কৃতি পেয়ে যান না। তিনি দাবি করেন, তদন্ত ও অভিযোগ ঢাকতে আসিফ মাহমুদ অন্তত একটি পক্ষকে বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেন করেছিলেন এবং এ সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট তথ্য তাঁর কাছে রয়েছে।
পোস্টের শেষাংশে রাশেদ খাঁন উল্লেখ করেন, আসিফ মাহমুদের উচিত ছিল পদমর্যাদার অপব্যবহার ও ভুলের জন্য দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়া। রাজনৈতিক বিরোধিতার কারণে কেউ কেউ আসিফ মাহমুদের পক্ষ নিতে পারেন, তবে ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে তিনি নিজের সোচ্চার অবস্থান অব্যাহত রাখবেন।
প্রতিক্রিয়া মেলেনি সংশ্লিষ্টদের
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁনের এই বিস্ফোরক ফেসবুক পোস্টকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হলেও, এতে উল্লেখিত ব্যক্তিদের তাৎক্ষণিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া ড. মুহাম্মদ ইউনূস কিংবা জামায়াতে ইসলামীর আমিরের পক্ষ থেকেও এই দাবির বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া বা স্পষ্টীকরণ দেওয়া হয়নি।

0 Comments