দেশে একের পর এক নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ এবং নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও রায়ের দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়েছে। দীর্ঘ দিন পার হলেও বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর মামলার রায় কার্যকর না হওয়ায় বিচারহীনতার সংস্কৃতি গড়ে উঠছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।
সম্প্রতি জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক বক্তব্যে তনু ও আছিয়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলা হয়, দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও তনু হত্যার যথাযথ বিচার মেলেনি। পরবর্তীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে আছিয়া নামের এক তরুণী নির্মম ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের শিকার হন, যিনি দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মৃত্যুবরণ করেন। এসব ঘটনার সঠিক বিচার আজও ঝুলে রয়েছে।
পরবর্তী সময়ে বিএনপি সরকারের মেয়াদে মিরপুর সাড়ে ১১ নম্বরের পল্লবীতে রামিসা নামের এক শিশু নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়। সেই ঘটনার প্রতিবাদে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে একাধিক মানববন্ধন, বিক্ষোভ কর্মসূচি ও তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলা হয়েছিল। আন্দোলনের মুখে মাত্র ২৭ দিনের মাথায় আদালত এই মামলার ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। উক্ত রায়ে প্রধান আসামী সোহেল এবং তার স্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড (ফাঁসি) মঞ্জুর করা হয়েছিল। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও সেই ফাঁসির রায় আজও কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। আদালতের এই রায় ঠিক কবে নাগাদ কার্যকর হবে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে তীব্র সংশয় তৈরি হয়েছে।
বক্তা আরও উল্লেখ করেন, দেশে খুন, ধর্ষণ, নারী নির্যাতন, শিশু হত্যা ও নির্যাতন আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা এখনই কঠোর হাতে দমন করা প্রয়োজন। এসব অপরাধ স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়কে বারবার তাগিদ দেওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যেন অবিলম্বে পুলিশ ও প্রশাসনিক সংস্থাসমূহকে কঠোর ও বিশেষ দিকনির্দেশনা প্রদান করে—যাতে কোনো অন্যায়কারী বা নির্যাতনকারী পার না পায় এবং নারী ও শিশুদের ওপর এ ধরনের ঘৃণ্য অপরাধ ঘটানোর সাহস না পায়।
প্রশাসনকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে বাধ্য করতে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক নোটিশ প্রেরণের জোরালো দাবি জানানো হয়েছে। যদি দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব রায় কার্যকর ও নতুন অপরাধ দমনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হয়, তবে আগামীতে আরও কঠোর সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে হুঁশিয়ারি প্রদান করা হয়।



0 Comments