দোকান কর্মচারীদের নিয়োগপত্র, সার্ভিস বুক ও নির্দিষ্ট মজুরি বোর্ড গঠনের জোরালো দাবি: ২৫ বছরের বঞ্চনার অবসান চান শ্রমিক নেতারা


 

দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখতে এবং সাধারণ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা নিশ্চিত করতে দিন-রাত কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন সারা দেশের দোকান কর্মচারীরা। অথচ দেশের শ্রম খাতের অন্যতম বৃহৎ এই জনগোষ্ঠী দীর্ঘ ২৫-৩০ বছর ধরে মৌলিক শ্রম অধিকার থেকে বঞ্চিত। কোনো নিয়োগপত্র নেই, নেই নির্দিষ্ট সার্ভিস বুক, হাজিরা খাতা কিংবা কোনো স্থায়ী মজুরি কাঠামো। কথায় কথায় চাকরিচ্যুত করা এবং কোনো সামাজিক সুরক্ষা না থাকা এখন কোটি দোকান কর্মচারীর দৈনন্দিন নিয়তি হয়ে দাঁড়িয়েছে।


​এমন অবহেলা ও অনিয়মের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জাতীয় দোকান কর্মচারী ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং ঢাকা মহানগর কমিটির (রেজিস্ট্রেশন নম্বর: বি-১৯৯৯) সভাপতি মোহাম্মদ হযরত আলীমুল্লাহ কর্মচারীদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে নতুন করে রাজপথে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

​এক বিবৃতিতে জাতীয় দোকান কর্মচারী ফেডারেশনের এই শীর্ষ নেতা বলেন, “দীর্ঘ আড়াই থেকে তিন দশক ধরে খেটে খাওয়া অবহেলিত দোকান কর্মচারীরা তাদের ঘাম ঝরানো পরিশ্রমের সঠিক মূল্য পাচ্ছেন না। বাংলাদেশ শ্রম আইনে স্পষ্ট বিধান থাকা সত্ত্বেও বেশিরভাগ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে কর্মচারীদের নিয়োগপত্র বা পরিচয়পত্র প্রদান করা হয় না। সামান্য অজুহাতে বা বিনা কারণে হঠাৎ করে কর্মচারীদের চাকরিচ্যুত করা হয়, যা সম্পূর্ণ বেআইনি ও অমানবিক। এই বঞ্চনা আর সহ্য করা হবে না।”


​সংগঠনটির পক্ষ থেকে অবহেলিত কর্মচারীদের ভাগ্য উন্নয়নে এবং কর্মক্ষেত্রে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় দ্রুত সময়ের মধ্যে সরকারের কাছে কয়েকটি জরুরি দাবি বাস্তবায়নের জোর দাবি জানানো হয়:

  • ​নিয়োগপত্র ও সার্ভিস বুক প্রদান: বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ অনুযায়ী প্রতিটি দোকান ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলকভাবে কর্মচারীদের জন্য আইনি নিয়োগপত্র, সার্ভিস বুক এবং হাজিরা খাতার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
  • ​নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন: অন্যান্য শিল্প খাতের মতো দোকান কর্মচারীদের জন্য অবিলম্বে একটি পৃথক ও বাস্তবসম্মত ‘নিম্নতম মজুরি বোর্ড’ গঠন করে নূন্যতম বেতন স্কেল নির্ধারণ করতে হবে।
  • ​বেআইনি ছাঁটাই বন্ধ: সামান্য কারণে কর্মচারীদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করার মানসিকতা বন্ধ করতে হবে এবং চাকরিচ্যুতির ক্ষেত্রে আইনি ক্ষতিপূরণ প্রদান নিশ্চিত করতে হবে।
  • ​নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা ও ওভারটাইম: অতিরিক্ত কর্মঘণ্টার অবসান ঘটিয়ে নির্দিষ্ট ৮ ঘণ্টা কর্মঘণ্টা নির্ধারণ এবং অতিরিক্ত সময়ের জন্য সঠিক হারে ওভারটাইম প্রদান করতে হবে।
  • ​তদারকি জোরদার: কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (DIFE) কর্তৃক জেলা ও থানা পর্যায়ের মার্কেট ও দোকানগুলোতে নিয়মিত পরিদর্শন ও মনিটরিং নিশ্চিত করা।

​কেন্দ্রীয় নেতারা স্পষ্ট জানান, সারাদেশের কর্মচারীদের একই ছাতার নিচে এনে এই আন্দোলনকে আরও বেগবান করা হবে। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট মালিক সমিতিগুলোর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে নেতারা বলেন, শ্রমিকের শ্রমের যথাযথ মর্যাদা ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত না করা হলে দেশের অর্থনীতি টেকসই হতে পারে না। দ্রুত পদক্ষেপ না নেওয়া হলে সারা দেশের দোকান কর্মচারীদের একতাবদ্ধ করে কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

Post a Comment

0 Comments

/* ব্রেকিং নিউজ ও বাটন ব্যাকগ্রাউন্ড দেশ টিভি রেড কালার */ .breaking-news, .subscribe-btn, .button { background-color: var(--desh-red) !important; color: #ffffff !important; } /* ক্যাটাগরি মেনু ও বর্ডার কাস্টমাইজেশন */ .nav-menu, .menu-item { border-bottom: 1px solid #eeeeee; }
সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি আন্তর্জাতিক সারাদেশ খেলাধুলা বিনোদন অর্থনীতি ধর্ম ভিডিও নিউজ