ঢাকা, ২ জুলাই ২০২৬: একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টোকশোতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে বিএনপির স্বনির্ভর বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির দেওয়া কিছু বক্তব্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব।
আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান এবং নিলোফার চৌধুরী মনির বক্তব্যকে ‘ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান’ করেন।
ফেসবুকে ছাত্রদল সভাপতির ক্ষোভ
ফেসবুক পোস্টে ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব লেখেন:
"প্রিয় নিলোফার চৌধুরী মনি আপা, এমপি, আপনি দীর্ঘ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন সংগ্রামের সারথি ছিলেন। গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে আপনার অনবদ্য ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু গতকাল টকশোতে জুলাই আগস্টের গণঅভ্যুত্থান নিয়ে আপনার অযাচিত বক্তব্যে আমরা অত্যন্ত মর্মাহত এবং ক্ষুব্ধ। আপনার বক্তব্য আমরা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করলাম।"
তিনি আরও যোগ করেন, "আমরা অবগত রয়েছি, আপনি জুলাই এর চেতনা ধারণকারী একজন দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদ। সেহেতু জুলাই আগস্টের গণঅভ্যুত্থান নিয়ে বক্তব্যে আপনি আরও বেশি সংযত ও শ্রদ্ধা প্রদর্শন করবেন, সেই প্রত্যাশা করি।"
টকশোতে যা বলেছিলেন নিলোফার চৌধুরী মনি
সম্প্রতি একটি টেলিভিশন টকশোতে অংশ নিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে ছাত্র-জনতার মৃত্যু ও ‘স্নাইপার দিয়ে টার্গেট করে হত্যা’র নেপথ্যের কারণ নিয়ে নানা প্রশ্ন তোলেন নিলোফার চৌধুরী মনি। তিনি আন্দোলনকারীদের ভূমিকা নিয়েও মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে তিনি বলেন:
"অনেক কিছুই আমি বলতে চেয়েও বলতে পারি না। কারণ, অনেক কিছু বললে অনেকের কাপড়-চোপড় ঠিক থাকবে না। যারা আজ কথা বলে, তারা কখন কোথায় কীভাবে সেনাবাহিনীর সঙ্গে দেখা করে এই কাজগুলো করেছিল। তাদের কতটা ভূমিকা ছিল।"
তিনি আরও বলেন, "যাদের বলা হয় যে তারাই (আন্দোলনের) মেইন। এই আন্দোলনে কারা মেইন ছিল, কেউ জানে না। আন্দোলনে অংশ নেয়াদের একজন আরেকজনকে চেনে নাই। পাশে হাঁটতে গেছে, আন্দোলন করতে গেছে; পাশের একজন পড়ে গেছে। মনে করছে যে নরমাল (স্বাভাবিকভাবে) পড়েছে। আসলে সে মারা গিয়েছে। গুলিটা সামনে থেকে আসছে না পেছন থেকে আসছে সেটাও জানে না। গুলির কোনো শব্দ হয় নাই, এটা স্নাইপারের গুলি ছিল।"
'কারা মারলো, কেউ জানে না'
টকশোতে আলোচনার একপর্যায়ে সঞ্চালক নিলোফার চৌধুরী মনির কাছে জানতে চান, আন্দোলন ও হত্যাকাণ্ডগুলো কি কোনো ডিজাইন বা ষড়যন্ত্র ছিল? জবাবে সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, "ডিজাইন তো অবশ্যই ছিল, ষড়যন্ত্র কিনা আমি বলতে পারবো না।"
হত্যাকাণ্ডের নৃশংসতা ও এর পেছনের শক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলে মনি বলেন, "কারা মারলো, কেউ জানে না। সামনে কোনো পুলিশও ছিল না। পুলিশের গুলি হলে তো সামনেই হতো। হতে পারে কোনো বাসা থেকে টার্গেট করে, ওপরতলা থেকে টার্গেট করে হয়তো গুলি করা হয়েছে। আমার নিজের কাছে অনেক প্রশ্নের উত্তর নাই।"
নিলোফার চৌধুরী মনির এমন রহস্যময় ও বিতর্কিত বক্তব্যের পরেই রাজনৈতিক মহলে, বিশেষ করে ছাত্রদলের অভ্যন্তরে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়, যার বহিঃপ্রকাশ ঘটে সংগঠনটির সভাপতির এই ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে।
স্টাফ রিপোর্টার
রাজনীতি ও জাতীয় বিভাগ

0 Comments