রাজধানীর অপরাধ পরিস্থিতি নিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের সঙ্গে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) নিজস্ব তথ্য-উপাত্তের মিল নেই বলে মন্তব্য করেছেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ। তিনি দাবি করেছেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর গত দুই মাসের পর্যবেক্ষণে ঢাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের চেয়ে উন্নত হয়েছে।
ডিএমপি কমিশনার জানান, টিআইবির প্রতিবেদনে রাজধানীতে অপরাধ বৃদ্ধির যে চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, তা পুলিশের নিয়মিত অপরাধ পরিসংখ্যান ও মাঠপর্যায়ের বাস্তব পর্যবেক্ষণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
শাহবাগ থানা পরিদর্শনকালে তিনি রাজধানীর সার্বিক সেবার মান, থানা কার্যক্রম এবং পুলিশ সদস্যদের কর্মপরিবেশ পর্যালোচনা করেন। এ সময় জনসেবামুখী পুলিশিং আরও কার্যকর করার ওপর জোর দেন তিনি।
অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ২৪ ঘণ্টা তৎপরতা
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ইতিবাচক পরিবর্তনের চিত্র তুলে ধরে ডিএমপি কমিশনার বলেন:
- টহল জোরদার: অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে পুলিশের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে।
- সাদা পোশাকে নজরদারি: ইউনিফর্ম পরিহিত সদস্যদের পাশাপাশি সাদা পোশাকের পুলিশও ২৪ ঘণ্টা মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছে।
- অপরাধ হ্রাস: এই উদ্যোগগুলোর ফলে চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে।
মানসিক স্বাস্থ্য ও আবাসন সুবিধা উন্নয়ন
পুলিশ সদস্যদের কল্যাণ ও কাজের উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টির বিষয়েও আলোকপাত করেন ডিএমপি কমিশনার। সম্প্রতি সদস্যদের আত্মহত্যার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পারিবারিক বা ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে অনেক সময় মানসিক চাপ তৈরি হতে পারে।
মানসিক সুস্থতা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে ডিএমপির গৃহীত পদক্ষেপসমূহ:
- খোলামেলা আলোচনার আহ্বান: কোনো সদস্য মানসিক চাপে থাকলে তা গোপন না রেখে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
- মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়ন: অতিরিক্ত কাজের চাপ কমাতে এবং মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষায় নানা কল্যাণমূলক উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
- অবকাঠামোগত আধুনিকায়ন: ডিএমপির বিভিন্ন থানার অফিসার্স মেস ও ফোর্স ব্যারাক আধুনিকায়নের কাজ চলমান রয়েছে, যাতে সদস্যদের উন্নত আবাসন ও উন্নত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা যায়।

0 Comments