বিশ্বকাপ ফাইনালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের অন্যতম কঠোর ও বৃহৎ ক্রীড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার বহুল প্রতীক্ষিত এই শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচকে ঘিরে দেশটির সর্বোচ্চ নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
আকাশে এফ-১৬, ছাদে স্নাইপার
নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়াম এবং এর আশপাশের আকাশসীমাকে সম্পূর্ণ ‘নো-ফ্লাই জোন’ বা নিষিদ্ধ আকাশসীমা ঘোষণা করা হয়েছে। আকাশে সার্বক্ষণিক টহল দিচ্ছে এফ-১৬ যুদ্ধবিমান। ইতোমধ্যে সাময়িক উড্ডয়ন নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করায় একটি ছোট বেসামরিক বিমানকে আকাশে বাধা দিয়েছে যুদ্ধবিমানটি। এছাড়া টুর্নামেন্ট চলাকালে নিষিদ্ধ আকাশসীমা থেকে শত শত ড্রোন জব্দ করেছে এফবিআই।
স্টেডিয়ামের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ছাদে অবস্থান নেবেন চৌকস স্নাইপাররা। মাঠ ও গ্যালারির সুরক্ষায় দায়িত্ব পালন করছেন ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)-এর হাজারো এজেন্টসহ বিভিন্ন ফেডারেল ও স্থানীয় সংস্থার সদস্যরা।
‘লেভেল-১ স্পেশাল ইভেন্ট’ ও ৬২৫ মিলিয়ন ডলারের বাজেট
এই মেগা ফাইনালকে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা শ্রেণি ‘লেভেল-১ স্পেশাল ইভেন্ট’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। বিশ্বকাপজুড়ে এই কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৬২৫ মিলিয়ন ডলারের বিশাল ফেডারেল নিরাপত্তা অনুদান অনুমোদন করেছেন। প্রায় দুই বছর ধরে ফেডারেল, অঙ্গরাজ্য এবং স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যৌথভাবে এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করে আসছে।
দর্শকদের জন্য হোয়াইট হাউসের জরুরি নির্দেশনা
হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মেটলাইফ স্টেডিয়ামে প্রবেশের ক্ষেত্রে দর্শকদের অতিরিক্ত ও কঠোর নিরাপত্তা তল্লাশির মুখোমুখি হতে হবে। এতে স্টেডিয়ামে প্রবেশ করতে দীর্ঘ সময় লেগে যেতে পারে। তাই যেকোনো ধরনের বিলম্ব এড়াতে দর্শকদের ম্যাচ শুরু হওয়ার অন্তত ৪ ঘণ্টা আগে স্টেডিয়ামে পৌঁছানোর বিশেষ পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ট্রাম্পের হাতে উঠবে বিশ্বকাপ
ম্যাচ শেষে এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে যাচ্ছে ক্রীড়াবিশ্ব। ফাইনাল খেলা উপভোগ করার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে যৌথভাবে বিশ্বজয়ী দলের হাতে কাঙ্ক্ষিত সোনালী ট্রফি তুলে দেবেন।

0 Comments