ঐতিহাসিক জুলাই-আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে বীর শহীদদের স্মরণে এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা ও সম্মান জানানোর লক্ষ্যে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে এক বিশাল স্মরণসভা ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৮ আগস্ট ২০২৬) বিকেলে যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা সংলগ্ন এলাকায় এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়। গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার এবং আহত বীর সেনানীদের সম্মান জানাতে রাজধানী ও আশপাশের এলাকা থেকে হাজারো ছাত্র-জনতা এতে অংশ নেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্য
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, এমপি।
তিনি তাঁর বক্তব্যে ২০২৪ সালের চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে যাত্রাবাড়ীসহ সারা দেশে প্রাণ উৎসর্গকারী শহীদদের গভীরভাবে স্মরণ করেন এবং বলেন:
"জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলন ছিল এক ঐতিহাসিক গণবিপ্লব। স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী ছিল অন্যতম প্রধান দুর্গ। এই আন্দোলনের শহীদরা দেশের গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার নতুন রূপকার। শহীদ ও আহতদের পরিবারের পুনর্বাসন এবং বিচার নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।"
প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, আন্দোলনের সময় যাত্রাবাড়ী ও মহাসড়ক এলাকায় ঘটে যাওয়া নির্মম হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের সুষ্ঠু বিচার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয় ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
শহীদ পরিবার ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের উপস্থিতি
সমাবেশে অভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া বিভিন্ন পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত থেকে তাঁদের আবেগঘন অনুভূতি ব্যক্ত করেন। আহতদের সুচিকিৎসা ও দীর্ঘমেয়াদী সহায়তার ব্যাপারে বিশেষ তাগিদ দেন বক্তারা।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং গণঅভ্যুত্থানের সমন্বয়কবৃন্দ।
সমাবেশের শেষ পর্যায়ে জুলাই-আগস্টের শহীদদের আত্মার মাগফিরাত এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।

0 Comments