কক্সবাজারে মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর ও মহেশখালীর উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান


কক্সবাজারের মহেশখালীতে নির্মিত মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর, অতি-আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (মিডা) সার্বিক কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

​পরিদর্শনকালে তিনি প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিশ্বমানের অবকাঠামো নিশ্চিত করে বাকি কাজ শেষ করার নির্দেশনা দেন।

​প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন ও অগ্রগতি পর্যালোচনা

​সকালে বিশেষ হেলিকপ্টারযোগে মাতারবাড়ি পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মূল প্লান্ট, কয়লা খালাসের জেটি এবং গভীর সমুদ্রবন্দরের চ্যানেল ও বার্থিং অবকাঠামো ঘুরে দেখেন।

​পরিদর্শন শেষে স্থানীয় প্রকল্প কার্যালয়ে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা সভায় অংশ নেন তিনি। সভায় মিডা (MIDA) এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালকেরা কাজের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।

​"মাতারবাড়ি ও মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্প কেবল কোনো আঞ্চলিক পরিকল্পনা নয়, এটি সমগ্র বাংলাদেশের অর্থনীতিকে বদলে দেওয়ার মতো একটি 'গেম-চেঞ্জার'। ব্লু ইকোনমি বা সুনীল অর্থনীতির পূর্ণ সুফল পেতে আমাদের এই মেগা প্রকল্পগুলোকে দ্রুত ও নিখুঁতভাবে কার্যক্ষম করতে হবে।"

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান


​পরিদর্শনের মূল দিক ও প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনাসমূহ:

  • গভীর সমুদ্রবন্দর চালু: আঞ্চলিক বাণিজ্যিক হাব হিসেবে গড়ে তুলতে বন্দরের টার্মিনাল ও চ্যানেল নির্মাণকাজ দ্রুত ত্বরান্বিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়।
  • বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণ: বিদ্যুৎ প্রকল্পের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াতে এবং তা জাতীয় গ্রিডে সুষমভাবে সরবরাহের মাধ্যমে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের শিল্পখাতে স্থায়িত্ব আনার নির্দেশ দেন।
  • মিডা (MIDA)-র কৌশলগত ভূমিকা: মহেশখালী এলাকায় দেশি-বিদেশি বড় বিনিয়োগ আকর্ষণে পরিবেশবান্ধব ও যুগোপযোগী বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রস্তুত করার আহ্বান জানানো হয়।
  • স্থানীয় উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণ: প্রকল্পের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উপকূলীয় পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্র সুরক্ষার বিষযটি নিশ্চিত করার তাগিদ দেওয়া হয়।

​সুনীল অর্থনীতির নতুন দিগন্ত

​প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, মহেশখালী ও মাতারবাড়িতে সংযোগ ব্যবস্থা উন্নত হওয়ার পাশাপাশি গভীর সমুদ্রবন্দর পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে বিদেশি জাহাজের জট কমবে এবং দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে বিপুল খরচ ও সময় বাঁচবে।

​পর্যালোচনা সভায় সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তা, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং প্রজেক্ট কনসালটেন্টগণ উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শন শেষে প্রধানমন্ত্রী মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও বন্দর এলাকার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।


Post a Comment

0 Comments

/* ব্রেকিং নিউজ ও বাটন ব্যাকগ্রাউন্ড দেশ টিভি রেড কালার */ .breaking-news, .subscribe-btn, .button { background-color: var(--desh-red) !important; color: #ffffff !important; } /* ক্যাটাগরি মেনু ও বর্ডার কাস্টমাইজেশন */ .nav-menu, .menu-item { border-bottom: 1px solid #eeeeee; }
সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি আন্তর্জাতিক সারাদেশ খেলাধুলা বিনোদন অর্থনীতি ধর্ম ভিডিও নিউজ