কুমিল্লা জেলার বরুড়া উপজেলার চিকিৎসাসেবার মান উন্নতকরণ এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় আধুনিক চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল ‘মরহুম এ কে এম আবু তাহের ২০ শয্যা হাসপাতাল’।
বরুড়া উপজেলার আদ্রা ইউনিয়নের সোনাইমুড়ী গ্রামে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিষয়ভিত্তিক আধুনিক চিকিৎসাসেবায় সমৃদ্ধ এই হাসপাতালটির শুভ উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও অতিথিবৃন্দ:
আজ এক বিশেষ উৎসবমুখর পরিবেশে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ফিতা কেটে হাসপাতালটির শুভ উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ সরকারের গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী জনাব জাকারিয়া তাহের সুমন, এমপি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে গণপূর্ত মন্ত্রী বলেন, "গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এই হাসপাতালটি বরুড়ার সর্বসাধারণের চিকিৎসাসেবার চাহিদা মেটাতে এবং স্বাস্থ্য খাতে এক অভাবনীয় পরিবর্তন আনতে সহায়ক হবে।"
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, চিকিৎসক, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
হাসপাতালের সুবিধা ও সুযোগ-সুবিধা:
২০ শয্যা বিশিষ্ট এই আধুনিক হাসপাতালে বিষয়ভিত্তিক চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থিত হলেও এতে রয়েছে:
- আধুনিক বহির্বিভাগ (OPD): প্রতিদিন অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের দ্বারা সাধারণ ও বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা প্রদান।
- জরুরি বিভাগ: ২৪ ঘণ্টা জরুরি সেবা ও প্রাথমিক চিকিৎসার সুব্যবস্থা।
- বিষয়ভিত্তিক ইনডোর সেবা: আধুনিক যন্ত্রপাতি সংবলিত ২০টি বেড, যেখানে ভর্তি রোগীদের সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হবে।
- মানসম্মত রোগ নির্ণয় (Diagnostic): উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে দ্রুত ও নির্ভুল প্যাথলজিকাল ও ডায়াগনস্টিক পরীক্ষা।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা ও কৃতজ্ঞতা:
স্থানীয় অধিবাসীরা জানান, সোনাইমুড়ী গ্রামসহ আশেপাশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষকে এতদিন সামান্য চিকিৎসার জন্যও দূরের শহর বা জেলা সদরে যেতে হতো। সময় ও অর্থ—উভয়েরই অপচয় হতো। এই হাসপাতালটি চালু হওয়ায় এখন ঘরের কাছেই সুলভে ও দ্রুত মানসম্মত চিকিৎসা পাওয়া সম্ভব হবে।
মরহুম এ কে এম আবু তাহের সাহেবের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে স্থানীয়রা এই মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান। প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের পক্ষ থেকে মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে হাসপাতালটিকে একটি সেবামূলক ও আদর্শ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।
বরুড়ার মানুষের জন্য উন্নত, আধুনিক ও মানবিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতালটি যেন এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে—উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলের মুখে ছিল এই একই আশাবাদ।




0 Comments