দেশে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সম্পর্কিত আইন ও নীতিমালাগুলো দ্রুত সংশোধন করে চলতি বছরের মধ্যেই চূড়ান্ত করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। চূড়ান্ত আইনটির সুবিধা ও দায়ভার পুরোপুরি চিকিৎসক এবং সংশ্লিষ্টদের ওপরই বর্তাবে এবং কেউ এই দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারবে না বলে জানিয়েছেন বিশিষ্ট জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও আলোচক ডা. মাহমুদা মিতু।
সম্প্রতি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের এক বিশেষ সভায় আইনটির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোকপাতকালে এই অভিমত উঠে আসে। সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব সাবের হোসেন চৌধুরী (এমপি), এবং বিশেষ বক্তা হিসেবে আলোচনা করেন ডা. মাহমুদা মিতু সহ অন্যান্য পেশাজীবী প্রতিনিধিরা।
সভায় আলোচনা করা হয়, কোনো আইন চূড়ান্ত করার পর বিএমডিসি বা অন্য কোনো সংস্থা এর দায় নেবে না; বরং স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অংশ হিসেবে চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্টদেরই এর বাস্তবায়ন ও কার্যকারিতার দায়িত্ব নিতে হবে।
আলোচনায় ডা. মাহমুদা মিতু বলেন, "আইনটি যদি বাস্তবায়িত হয়, তবে এর সম্পূর্ণ দায় কিন্তু আমাদের (চিকিৎসকদের) ওপরই বর্তাবে। কালকে বিএমডিসি বা সংসদ সদস্যরা এর দায় নেবে না। সংসদ সদস্যরা সংসদীয় কমিটিতে থেকে শুধু এটি পাসে সহায়তা করবেন।"
আইনের বিভিন্ন সংশোধনী ও প্রস্তাবনা
সভায় জানানো হয়, দীর্ঘদিন ধরে আইনটি নিয়ে বিভিন্ন ধাপে পর্যালোচনা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। এতে চিকিৎসকদের ফি নির্ধারণ, চিকিৎসা সেবার সুযোগ-সুবিধা এবং সুরক্ষা সম্পর্কিত স্পষ্ট দিকনির্দেশনা যুক্ত করার কাজ চলছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট সংসদীয় কমিটি এটি দ্রুত পাস করার জন্য আন্তরিক চেষ্টা চালাচ্ছেন উল্লেখ করে আলোচনায় তাগিদ দেওয়া হয় যে, চলতি বছরের মধ্যেই সব সংশোধনী চূড়ান্ত করে কাজ শেষ করতে হবে।
চিকিৎসা ব্যবস্থা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি
চিকিৎসকদের কর্মপরিবেশ এবং সাধারণ মানুষের ভুল ধারণা দূর করতে ব্যাপক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়। সভায় উঠে আসা প্রধান দিকগুলো হলো:
- বিলের ভুল ধারণা দূর করা: হাসপাতালে বিশাল অঙ্কের চিকিৎসা বিল (যেমন ৫ লাখ টাকা) হলেও তার পুরোটাই যে চিকিৎসক পান না—এই বাস্তব সত্যটি জনগণের কাছে স্পষ্ট করা প্রয়োজন।
- পর্যাপ্ত সরঞ্জামের অভাব: হাসপাতালে প্রয়োজনীয় মেডিকেল ইকুইপমেন্ট ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসকের ঘাটতি রয়েছে।
- অতিরিক্ত রোগীর চাপ: একজন চিকিৎসককে সীমিত সময়ে অনেক রোগী দেখতে হয়, যার ফলে সময় না দিতে পারার পেছনের মূল কারণ ও সীমাবদ্ধতাগুলো সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরা দরকার।
ডা. মাহমুদা মিতু সহ অন্যান্য বক্তারা আহ্বান জানিয়ে বলেন, "রোগীদের সঠিক সেবা দিতে এবং চিকিৎসকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রস্তাবিত সংশোধনীগুলো নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে পুনরায় বসে কাজগুলো এ বছরই শেষ করা প্রয়োজন।"




0 Comments