ঢাকা: ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশে ক্ষমতার পটপরিবর্তন হলেও রাজধানীর মৌচাক, মালিবাগ, গুলবাগ ও শান্তিবাগ এলাকায় চাঁদাবাজি এবং সন্ত্রাসী রাজত্ব বন্ধ হয়নি। অভিযোগ উঠেছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রভাব খাটানো শীর্ষ তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী মোতাহার হোসেন ও তার চক্রটি আগের মতোই এলাকা এবং স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ত্রাসের রাজত্ব বজায় রেখেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, মৌচাকের বিখ্যাত ‘ফরচুন শপিং মল’ ও ‘আয়েশা মার্কেট’ কেন্দ্র করে চলছে এই চাঁদাবাজি। সাধারণ দোকান মালিকদের কাছ থেকে সার্ভিস ফি, উন্নয়নমূলক কাজ এবং সংগঠনের বিভিন্ন খাতের নামে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত ফি দিতে আপত্তি জানালেই মিলছে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি। এমন কি বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের পরও পুরো এক মাস বিদ্যুৎহীন রাখতে বাধ্য করার মতো ঘটনাও ঘটেছে সেখানে।
ট্রিপল মার্ডারের আসামির হাতে ব্যবসায়ী সংগঠনের রাশ
২০০০ সালে রাজধানীর রসূলবাগ পুলিশ ক্যাম্পের ১০০ গজের মধ্যে ঘটে যাওয়া চাঞ্চল্যকর ট্রিপল মার্ডারের প্রধান আসামি এই মোতাহার হোসেন। অভিযোগ রয়েছে, ২০০০ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত এলাকাটিতে সংঘটিত একাধিক হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে।
রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে কোনো বৈধ স্বত্ব না থাকা সত্ত্বেও ফরচুন শপিং মলের দোকান মালিক সমিতির প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেন মোতাহার। গঠিত সমিতিতে তার সহযোগীরা হলেন:
- গোলাম গাউসি আজম (চঞ্চল): সভাপতি
- তামজিদ খান শশী (চঞ্চলের ছেলে): সাংগঠনিক সম্পাদক
- জাহাঙ্গীর হাসান মানিক (শাহজাহানপুর থানা আওয়ামী লীগের সদস্য): সাধারণ সম্পাদক
- রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া ও ইসমাইল হোসেন প্রধানীয়া: সহযোগী
এছাড়া এ চক্রকে সহায়তার অভিযোগ রয়েছে বিএনপি'র ১২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার সাজ্জাদ জহির এবং দুই পুলিশ সদস্য—সাব-ইনস্পেক্টর এজাজ ও শরিফের বিরুদ্ধে। সাধারণ ব্যবসায়ী বা এপার্টমেন্টের বাসিন্দারা প্রতিবাদ করলে ওই দুই পুলিশ সদস্য তাদের আইন ও পরিবারের ক্ষতির ভয় দেখিয়ে মুখ বন্ধ রাখতেন বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন।
পটপরিবর্তনেও বদলায়নি চিত্র
অভিযোগ রয়েছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবের হোসেন চৌধুরী ও বাহাউদ্দিন নাছিমের ঘনিষ্ঠ ছিলেন মোতাহার। ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরও পরিস্থিতির কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন হয়নি।
সরকার পরিবর্তনের পর ফরচুন শপিং মলের মসজিদে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও আন্দোলনে শহীদদের জন্য দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হলে মোতাহার-মানিক গং তাতে বাধা দেয় বলে অভিযোগ তোলেন মসজিদের খতিব, সেক্রেটারি এবং স্থানীয় বিএনপি নেতারা। ব্যবসায়ীদের দাবি—নেতা ও আশ্রয়ের জায়গা বদলালেও টাকা আদায়ের পুরনো সিন্ডিকেট এখনো সক্রিয়।
ব্যবসায়ীদের নতুন কমিটি ও বিচারের দাবি
মোতাহার গংয়ের অবৈধ দখলদারিত্ব ও ব্যবসায়ীদের ওপর অত্যাচার থেকে মুক্তি পেতে গত ২২ জুলাই ২০২৬ তারিখে ফরচুন শপিং মলের বৈধ মালিক ও ব্যবসায়ীরা একতাবদ্ধ হন। ‘দোকান মালিক সমবায় সমিতি লিমিটেড’ (রেজিস্ট্রেশন নম্বর: ০০০৪৫)-এর অধীনে তারা একটি সম্পূর্ণ বৈধ কমিটি গঠন করেছেন।
তবে নতুন কমিটি গঠনের পর থেকে মোতাহার গং ক্যাডার বাহিনী দিয়ে নবগঠিত কমিটির সদস্যদের হুমকি ও ক্ষতিসাধনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, ভয়ভীতি ও অবৈধ চাঁদাবাজির হাত থেকে নিষ্কৃতি পেতে এবং ফরচুন শপিং মলকে সন্ত্রাসী মুক্ত করতে সাধারণ দোকান মালিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা দেশের বর্তমান নীতিনির্ধারক ও বিএনপি নেতা তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ এবং সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।




0 Comments