চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও লাভজনক 'নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল' (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের (DP World) কাছে ইজারা দেওয়ার উদ্যোগের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে 'স্টুডেন্টস ফর সভারেন্টি (রিসার্চ উইং)'। ঢাকা জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় সংগঠনটি লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দরের সার্বিক আর্থিক ক্ষতি ও জাতীয় নিরাপত্তার ঝুঁকির বিষয়গুলো তুলে ধরে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০১৯ সালে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ডিপি ওয়ার্ল্ডকে চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও সেই প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। ডিপি ওয়ার্ল্ডকে এনসিটি ইজারা দিলে বাংলাদেশ বছরে প্রায় ৯০ মিলিয়ন ডলার (৯ কোটি ডলার) ক্ষতির মুখে পড়বে বলে দাবি করে সংগঠনটি।
লিখিত তথ্যে উল্লেখ করা হয়:
- আর্থিক ক্ষতি: দেশীয় ব্যবস্থাপনায় যেখানে এনসিটি থেকে বছরে নিট আয় হয় প্রায় ১৪৮ মিলিয়ন ডলার, সেখানে ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দিলে তা নেমে আসবে মাত্র ৫৮.৮৬ মিলিয়ন ডলারে। ফলে প্রতি বছর বাংলাদেশের প্রায় ৮৯.১৪ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৯০ মিলিয়ন ডলার আর্থিক ক্ষতি হবে।
- সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার ঝুঁকি: ডিপি ওয়ার্ল্ডের সেন্ট্রাল ম্যানেজমেন্টের উচ্চপদে এবং এর আইটি ও ডিজিটাল পরিচালন সিস্টেমে বহু ভারতীয় কর্মকর্তা অবস্থান করছেন। এতে চট্টগ্রাম বন্দরের তথ্য সুরক্ষা, ডিজিটাল সিস্টেম নিয়ন্ত্রণ এবং জাতীয় নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়বে বলে শঙ্কা প্রকাশ করা হয়।
- কনসেশন চুক্তির বিরোধিতা: সিঙ্গাপুর বা ভিয়েতনামের মতো দেশে বিদেশি অপারেটরদের ঢালাওভাবে টার্মিনাল চালানো বা একচ্ছত্র ইজারা না দেওয়ার উদাহরণ টেনে সংগঠনটি জানায়, অনভিজ্ঞ বা ভিন্ন স্বার্থসম্পর্কিত বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে এনসিটি হস্তান্তর করলে সার্বিক বন্দর ব্যবস্থাপনায় কৃত্রিম দীর্ঘসূত্রতা ও আর্থিক ক্ষতি হতে পারে।
সংগঠনটি সরকারের কাছে এনসিটি ইজারা দেওয়ার যেকোনো প্রক্রিয়া বাতিল করে দেশীয় ব্যবস্থাপনায় চট্টগ্রাম বন্দর পরিচালনা এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষার জোর দাবি জানায়।



0 Comments