অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী শতভাগ পেনশন সমর্পণকারী অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জন্য মাসিক চিকিৎসা ভাতা, বাৎসরিক উৎসব ভাতা এবং পেনশন পুনঃস্থাপনের কার্যকর দাবিরে সংবাদ সম্মেলন ও আলটিমেটাম দিয়েছে ‘গ্রামীণ ব্যাংক অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ পরিষদ’।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, গ্রামীণ ব্যাংকের ১৫ হাজারের বেশি অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এর মধ্যে ১৫ বছরের অধিক সময় অতিক্রান্ত হওয়া পুনঃপেনশন প্রাপ্য অবসরপ্রাপ্তদের সংখ্যা ৫ হাজারের বেশি। ২০০৪ সালের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী অন্যান্য সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা ও উৎসব ভাতা কার্যকর হলেও গ্রামীণ ব্যাংকে তা এখনো বাস্তবায়ন করা হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত তথ্য মতে, এসব ভাতা প্রদান করলে প্রতিষ্ঠানের মাসিক চিকিৎসা বাবদ ব্যয় হবে মাত্র ২ কোটি ২৫ লাখ টাকা এবং উৎসব ভাতা বাবদ বছরে প্রয়োজন হবে ৪৫ কোটি টাকা, যা এই বৃহৎ প্রতিষ্ঠানের জন্য কোনো জটিল বিষয় নয়।
ঘোষিত কর্মসূচি:
১. ১০ অক্টোবরের আলটিমেটাম: আগামী ৭ দিনের মধ্যে (১০ অক্টোবর) দাবি বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেওয়া না হলে আগামী ১১ অক্টোবর সকাল ১০টা থেকে মিরপুর-২ নম্বরে অবস্থিত গ্রামীণ ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ে সারা দেশের অবসরপ্রাপ্তদের নিয়ে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে।
২. দেশব্যাপী স্মারকলিপি ও অবস্থান: দাবি আদায়ের লক্ষ্যে সারা দেশে গ্রামীণ ব্যাংকের ৫০টি জোনাল ও এরিয়া অফিসে স্মারকলিপি প্রদান, অবস্থান কর্মসূচি ও সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
৩. কুশপুত্তলিকা দাহ: ১১ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, বর্তমান চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কুশপুত্তলিকা দাহ করার ঘোষণা দেওয়া হয়।
সংগঠনটির সভাপতি মাহবুবুল আলম বিজ্ঞপ্তিতে জানান, বিষয়টি ইতোমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, সুশীল সমাজসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি আকারে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। দাবি দ্রুত মেনে নিয়ে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জোর দাবি জানান তাঁরা



0 Comments