জিন্নার ছবি ও লাহোর প্রস্তাব ভাঙচুর স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিরোধী কাজ: ঢাবি বক্তা


 

মোহাম্মদ আলী জিন্নার ছবি ভাঙচুর এবং ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব সংক্রান্ত চিত্রকর্ম ছেঁড়ার ঘটনাকে ইতিহাস সম্পর্কে অজ্ঞতা এবং দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিরোধী কাজ বলে আখ্যায়িত করেছেন এক বক্তা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

​বক্তা তার বক্তব্যে ডাকসুর সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম আযমের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, "১৯৪৮ সালে যখন তিনি ডাকসুর জিএস ছিলেন, তখন তিনি মুসলিম ছাত্র ফেডারেশন করতেন, যা তৎকালীন সময়ে মুসলিম লীগের ছাত্র সংগঠন ছিল। গোলাম আযম ১৯৫৪ সালে জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেন। তিনি ভাষা আন্দোলনেও অংশগ্রহণ করেছিলেন, যদিও পরবর্তীতে স্বীয় জীবদ্দশায় মন্তব্য করেছিলেন যে ভাষা আন্দোলনে অংশ নেয়া তার ভুল ছিল।"

​ডাকসুর সামনে বা অন্য কোথাও গোলাম আযমের ছবি রাখা নিয়ে বিতর্কের পাশাপাশি মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে ধরে বক্তা বলেন, জিন্নাহ ছোটখাটো মাপের কোনো মানুষ নন। জিন্নাহকে নিয়ে যে মিথ এবং কলকাতার বয়ান বাংলাদেশে প্রচলিত রয়েছে, তার প্রভাবেই এমন ঘটনা ঘটেছে। তথাকথিত এক শ্রেণীর উচ্ছৃঙ্খল চক্রের মাধ্যমে জিন্নার ছবি ভেঙে ফেলা অত্যন্ত নিন্দনীয়।

​তিনি আরও বলেন, "যে ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাবের ওপর ভিত্তি করে আজকের স্বাধীন বাংলাদেশ দাঁড়িয়ে আছে, সেই লাহোর প্রস্তাবের ছবিও ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। ওই ছবিতে অধিকাংশ শীর্ষস্থানীয় বাঙালি নেতারা উপস্থিত ছিলেন, তাদের ছবিও ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে।"

​ইতিহাস না জানা এবং পড়াশোনা না করার কারণেই এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইতিহাস সম্পর্কে জ্ঞান না থাকলে জাতির মধ্যে এক শ্রেণীর উচ্ছৃঙ্খল জনগোষ্ঠী গড়ে ওঠে। যারা এই ধরনের ধ্বংসাত্মক কাজ করেছেন, তারা প্রকারান্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরোধী কাজ করেছেন।

Post a Comment

0 Comments

/* ব্রেকিং নিউজ ও বাটন ব্যাকগ্রাউন্ড দেশ টিভি রেড কালার */ .breaking-news, .subscribe-btn, .button { background-color: var(--desh-red) !important; color: #ffffff !important; } /* ক্যাটাগরি মেনু ও বর্ডার কাস্টমাইজেশন */ .nav-menu, .menu-item { border-bottom: 1px solid #eeeeee; }
সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি আন্তর্জাতিক সারাদেশ খেলাধুলা বিনোদন অর্থনীতি ধর্ম ভিডিও নিউজ