পোশাক খাতে অস্থিরতা সৃষ্টির চক্রান্ত ও অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে জি-এফওপির সংবাদ সম্মেলন


 

পোশাক শিল্প সেক্টরে মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন ও বেতন বৃদ্ধির উদ্যোগকে কেন্দ্র করে দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত অপশক্তির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছে গার্মেন্টস ফেডারেশন ঐক্য পরিষদ (G-FOP)। আজ সোমবার সকাল ১০:৩০ মিনিটে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়।

​৩ বছরের জায়গায় এখন ৩ বছরেই মজুরি বোর্ড

​সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, পূর্বের নিয়ম অনুযায়ী প্রতি ৫ বছর পর পর মজুরি বোর্ড গঠিত হলেও সরকারের শ্রম বান্ধব মনোভাবের কারণে শ্রম আইনে সংশোধন এনে তা ৩ বছরে নামিয়ে আনা হয়েছে। অক্টোবর ২০২৬-এর মধ্যে নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা শ্রমজীবী মানুষের মধ্যে আশার আলো সঞ্চার করেছে।

​বহিরাগতদের হামলা ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ

​সংগঠনটি অভিযোগ করে যে, গত ১২ অক্টোবর উত্তরায় 'শ্রমিক' পরিচয়ে বহিরাগত কিছু লোক লাঠিসোটা নিয়ে রাস্তা অবরোধ করে এবং বিভিন্ন কারখানায় ঢুকে সাধারণ শ্রমিকদের বের করে দেয়। এছাড়া সাধারণ মানুষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনাও ঘটে।

​সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকার কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের আগেই এ ধরনের সহিংস ঘটনা ঘটানো এবং পোশাক শিল্পে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা একটি স্পষ্ট চক্রান্ত।

​রাজনৈতিক উসকানি ও প্রোপাগান্ডা

​জি-এফওপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, পলাতক শেখ হাসিনার দেশে ফেরা এবং গার্মেন্ট শ্রমিকদের দ্বিগুণ বেতন বৃদ্ধির ভিত্তিহীন ঘোষণার মাধ্যমে বিভ্রান্তি ও অসন্তোষ ছড়ানোর অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর কিছু নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সমর্থিত এবং রেজিস্ট্রেশনহীন ভুঁইফোড় সংগঠন পোশাক খাতকে অস্থিতিশীল করতে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে উসকানি দিয়ে যাচ্ছে।

​৮ দফা দাবি ও সুনির্দিষ্ট আইনানুগ ব্যবস্থার আহ্বান

​গার্মেন্টস ফেডারেশন ঐক্য পরিষদ (G-FOP) পোশাক শিল্পের সুরক্ষায় এবং দেশের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড রক্ষায় বিশৃঙ্খলাকারী, ষড়যন্ত্রকারী ও ফ্যাসিবাদের দোসরদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছে। সেই সাথে প্রায় ৪০ লাখ গার্মেন্টস শ্রমিকের জীবনমান উন্নয়নে ৬ মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি, চিকিৎসা, শিক্ষা ও নিরাপদ কর্মসংস্থান সুনিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। 

Post a Comment

0 Comments