দেশের শীর্ষস্থানীয় ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান 'দি ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড'-এর বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন অনিয়মের প্রতিবাদ করায় এবং দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ দেওয়ায় এক সাবেক সিকিউরিটি সুপারভাইজারকে অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুধু তাই নয়, বর্তমানে তাকে ও তার পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে।
অভিযোগের নেপথ্যে যা রয়েছে:
অভিযোগকারী মো. শামসুল হক ২০০৫ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে দি ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের প্রধান কার্যালয়ে সহকারী সিকিউরিটি সুপারভাইজার পদে সততা ও নিষ্ঠার সাথে কর্মরত ছিলেন। কর্মকালীন সময়ে তিনি প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির ঘটনা প্রত্যক্ষ করেন এবং প্রতিবাদ জানান। প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার না পেয়ে তিনি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং রংপুরের কোতোয়ালি থানায় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। এর জেরে প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষস্থানীয় কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশে তাকে নানাভাবে হয়রানি করা হয় এবং একপর্যায়ে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তাকে অন্যায়ভাবে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
অভিযুক্তদের তালিকা ও দুর্নীতির চিত্র:
দুদকে দাখিল করা আবেদন ও আইনি নোটিশ সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটির বেশ কিছু উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে:
- প্রফেসর ড. এ কে এম সদরুল ইসলাম (ব্যবস্থাপনা পরিচালক): তিনি ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যাল পিএলসি ও ইবনে সিনা ট্রাস্ট উভয় প্রতিষ্ঠান থেকে বিপুল অংকের বেতন গ্রহণ এবং নিয়মবহির্ভূতভাবে ঢাকার ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুর এলাকায় একাধিক ফ্ল্যাট ও ভবন ক্রয়ের সাথে জড়িত বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
- শাহজাহান চৌধুরী (সাবেক শেয়ার ম্যানেজার): তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে কোম্পানির পিএফ ফান্ডের প্রায় ২০০ কোটি টাকা আত্মসাৎপূর্বক সাত তলা বিল্ডিং নির্মাণ এবং ফ্ল্যাট বাণিজ্য করার অভিযোগ রয়েছে।
- এ ছাড়াও মো. শহিদ ফারুকী (কোম্পানি সেক্রেটারি), আর এম মনির (শেয়ার ম্যানেজার), জসিম উদ্দিন (সিএফও), এস এন এমদাদুল হক (ডেপুটি ম্যানেজার-সিকিউরিটি) এবং মাহমুদ নুর সবুজ (এইচ আর ডি ইনচার্জ)-এর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, জবরদস্তি জমি দখল, অবৈধ নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্য এবং বিভিন্ন স্থানে ফ্ল্যাট ক্রয়ের গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।
বেতন কর্তন ও পারিবারিক দুর্দশা:
ভুক্তভোগী মো. শামসুল হক জানান, তার মেয়ের বিয়ের জন্য নেওয়া ঋণের কিস্তি পরিশোধের নামে তার সম্মতি ছাড়া প্রতি মাসে বেতন থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে টাকা কর্তন করা হতো। চাকরি হারানোর পর থেকে তিনি চরম আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন এবং তার পরিবারের জীবনযাত্রা সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এছাড়া মামলা ও আইনি লড়াই পরিচালনা করতে গিয়ে তার সমস্ত সঞ্চিত অর্থ শেষ হয়ে গেছে।
রাষ্ট্রপতি ও দুদক চেয়ারম্যানের নিকট স্মারকলিপি:
নিজের ও পরিবারের জীবন রক্ষা, ভাইয়ের চাকরি সুরক্ষা এবং প্রতিষ্ঠানে সংঘটিত দুর্নীতির নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার চেয়ে ভুক্তভোগী মো. শামসুল হক মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর চেয়ারম্যান বরাবর পৃথক আবেদন ও স্মারকলিপি প্রদান করেছেন। বর্তমানে তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরে চলা এই অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের সুনির্দিষ্ট তদন্ত এবং ভুক্তভোগী কর্মচারীর ন্যায়বিচার প্রাপ্তির জন্য সচেতন মহলের জোর দাবি উঠেছে।

0 Comments