নরসিংদীর প্রতিটি প্রান্তে, বিশেষ করে রায়পুরা উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে মৌসুমি ও আমদানিকৃত ফল কিনতে গিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্যের ধাক্কা সামলানোর পর ফলের বাজারে এই অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধির ফলে পুষ্টিকর খাবার জোগাড় করা অনেকের জন্যই বিলাসিতায় পরিণত হয়েছে।
ক্রেতাদের পকেট কাটছে আকাশছোঁয়া দাম
রায়পুরার মরজাল বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন বিভিন্ন ফলের দোকান ঘুরে দেখা যায় এক অস্বস্তিকর চিত্র। দোকানে থরে থরে সাজানো রয়েছে আপেল, কমলা, আঙুর, মাল্টা, ডালিম ও নাশপাতির মতো জনপ্রিয় বিদেশি ফলগুলো। তবে ক্রেতাদের দীর্ঘশ্বাস দীর্ঘ হচ্ছে কেবল দামের তালিকা দেখেই। অনেকেই ফলের দরদাম করে প্রয়োজনের তুলনায় নামমাত্র পরিমাণ কিনছেন কিংবা খালি হাতেই দোকান ছাড়ছেন।
দিনমজুর ও সীমিত আয়ের মানুষেরা জানান, পরিবারের অসুস্থ সদস্য বা শিশুদের জন্য নিয়মিত ফল কেনার যে পুষ্টিগত চাহিদা রয়েছে, তা এখন বাড়তি দামের কারণে পূরণ করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। রিকশাচালক মো. আল-আমিনের আক্ষেপ—বাজারের আগুনমূল্যের বাজারে পরিবার বাঁচানোই যেখানে দায়, সেখানে ফল কেনার কথা তো এখন চিন্তার বাইরে চলে গেছে।
মূল্যের অসঙ্গতি ও ক্রেতা বিভ্রান্তি
বাজারের অস্থিতিশীলতার আরেকটি বড় কারণ হিসেবে সামনে আসছে দোকানভেদে দামের আকাশচুম্বী পার্থক্য। একই মানের ফল একেক দোকানে একেক দামে বিক্রি হওয়ায় সাধারণ ক্রেতারা প্রতিনিয়ত বিভ্রান্তির শিকার হচ্ছেন। ভুক্তভোগীদের জোরালো দাবি, প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত তদারকি এবং প্রতিটি দোকানে দৃশ্যমান মূল্যতালিকা টাঙানো হলে এই নৈরাজ্য কিছুটা হলেও রোধ করা সম্ভব।
ব্যবসায়ীদের ভিন্ন যুক্তি
অন্যদিকে, খুচরা বিক্রেতাদের দাবি ভিন্ন। মরজাল বাসস্ট্যান্ড এলাকার ফল ব্যবসায়ী জহিরুল ইসলাম জানান, ইচ্ছা করে দাম বাড়ানোর সুযোগ তাদের নেই। পাইকারি বাজারে উচ্চমূল্য, বর্ধিত পরিবহন খরচ এবং ফল সংরক্ষণের ব্যয় মেটানোর পরই তাদের পণ্য বিক্রি করতে হয়। এর সঙ্গে যোগ হয় পচে নষ্ট হয়ে যাওয়ার ব্যবসায়িক ঝুঁকি। তবে সব মিলিয়ে সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা এবং বাজারের সিন্ডিকেট ভাঙা গেলে দাম ক্রেতাদের নাগালে রাখা সম্ভব বলে মনে করেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
#নরসিংদী_সংবাদ #রায়পুরা_সংবাদ #মরজাল_বাজার #ফলের_দাম #বাজার_দর #দ্রব্যমূল্যের_ঊর্ধ্বগতি
#জনদুর্ভোগ #বাজার_তদারকি

0 Comments