আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা ২০২৬ উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে ঢাকা জেলা ও মহানগর এলাকার পূজামণ্ডপসমূহের সার্বিক নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং আনুষঙ্গিক বিষয়াদি নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ রবিবার (৪ অক্টোবর, ২০২৬) ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মানীত প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, এমপি।
সভায় বক্তারা ঢাকার প্রতিটি পূজামণ্ডপে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা জোরদার করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। শারদীয় দুর্গোৎসব যেন নির্বিঘ্নে ও আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপিত হতে পারে, সেজন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
সভার মূল সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনাসমূহ:
- নিরাপত্তা ও সিসিটিভি নজরদারি: মহানগর ও জেলার সকল গুরুত্বপূর্ণ পূজামণ্ডপে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ, আনসার ও স্বেচ্ছাসেবী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ মণ্ডপগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও সার্বক্ষণিক নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
- জরুরি সেবা ও নিয়ন্ত্রণ কক্ষ: পূজাকেন্দ্রে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা দুর্ঘটনা এড়াতে বিশেষ কন্ট্রোল রুম বা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু রাখার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ বিভাগ এবং স্বাস্থ্যসেবা দলকে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
- সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা: উৎসবের দিনগুলোতে যেকোনো ধরনের গুজব রোধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নজরদারিতে রাখার পাশাপাশি স্থানীয় প্রতিনিধি ও পূজা উদযাপন পরিষদের সাথে সার্বিক যোগাযোগ জোরদার করার ওপর জোর দেওয়া হয়।
প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, "বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। আবহমানকাল ধরে সব ধর্মের মানুষ এখানে নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব সোহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে পালন করে আসছে। শারদীয় দুর্গাপূজা যাতে সম্পূর্ণ নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও আনন্দের সাথে উদযাপিত হয়, সেজন্য সরকার প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।"
ঢাকা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এই সমন্বয় সভায় জেলা প্রশাসক, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, ঢাকা মহানগর ও জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

0 Comments