উত্তরাঞ্চলের লোকসংস্কৃতির অন্যতম ধারক ও বাহক ভাওয়াইয়া গানকে বিশ্বমঞ্চে প্রসারিত করার প্রত্যয় নিয়ে রাজধানীর সেগুনবাগিচাস্থ বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে মহাসমারোহে অনুষ্ঠিত হলো ‘ভাওয়াইয়া একাডেমি কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদ, ঢাকা’-এর সাধারণ সভা ও মনোজ্ঞ ‘ভাওয়াইয়া সন্ধ্যা’।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং ভাওয়াইয়া একাডেমির প্রধান উপদেষ্টা অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু, এম পি।
অনুষ্ঠানের শুরুতে সংগঠনের প্রাতিষ্ঠানিক ও সাংগঠনিক গতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ভাওয়াইয়া একাডেমি কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সংগঠনের বিগত দিনের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরা হয় এবং ভাওয়াইয়া সংগীতের সংরক্ষণ, গবেষণা ও নতুন প্রজন্মকে লোকসংগীতে উদ্বুদ্ধ করার নানা পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সাধারণ সভা শেষে শুরু হয় দ্বিতীয় অংশের মূল আকর্ষণ—‘ভাওয়াইয়া সন্ধ্যা’। ভাওয়াইয়া একাডেমির শিল্পী ও দেশের আমন্ত্রিত নামী-দামি লোকসঙ্গীত শিল্পীরা একে একে মঞ্চে উঠে ঐতিহ্যবাহী সুরের মূর্ছনা পরিবেশন করেন। সুরের আবেশ ও ভাওয়াইয়ার চিরন্তন টানে জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তন জুড়ে এক উৎসবমুখর আবহ তৈরি হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, "ভাওয়াইয়া কেবল একটি অঞ্চলের গান নয়, এটি আমাদের মা ও মাটির সুর, আমাদের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের এক অনন্য দলিল। এই অমূল্য লোকঐতিহ্যকে বিশ্বদরবারে যথাযথভাবে উপস্থাপনের জন্য ভাওয়াইয়া একাডেমি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এই ধরণের আয়োজন নতুন প্রজন্মকে নিজেদের শিকড়ের সাথে যুক্ত রাখতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।"
অনুষ্ঠানে ভাওয়াইয়া একাডেমির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ, বিশিষ্ট সংস্কৃতিজন, সংগীতশিল্পী এবং প্রচুর সংখ্যক ভাওয়াইয়ানুরাগী দর্শক-শ্রোতা উপস্থিত ছিলেন। সমাপ্তিতে উত্তরাঞ্চলের এই লোকঐতিহ্যকে ধারণ ও লালন করার অঙ্গীকার নিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।






0 Comments