সারাদেশের ন্যায় উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হয়েছে ‘বিশ্ব ডিম দিবস’। দিবসটি উপলক্ষ্যে আজ রাজধানীর খামারবাড়িস্থ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) চত্বরে দরিদ্র, ভাসমান মানুষ ও এতিম শিশুদের মাঝে বিনামূল্যে সুস্বাদু ও পুষ্টিকর সেদ্ধ ডিম বিতরণ করা হয়। সাধারণ মানুষের মধ্যে পুষ্টি সচেতনতা বাড়াতে এবং খাদ্যে প্রোটিনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরতে এই বিশেষ মানবসেবামূলক কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়।
পুষ্টি সচেতনতায় জোরালো জোর:
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, একটি সুস্থ, সবল ও মেধাবী জাতি গঠনে প্রোটিন এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টির গুরুত্ব অপরিসীম। সহজলভ্য, কম খরচ এবং উচ্চমানের প্রোটিনের উৎস হিসেবে ডিমের কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু সমাজের পথশিশু, সুবিধাবঞ্চিত এতিম ও দরিদ্র শ্রেণীর মানুষের প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় সঠিক মাত্রায় প্রোটিন থাকে না। তাদের সেই পুষ্টির ঘাটতি পূরণ এবং দৈনিক খাদ্যতালিকায় অন্তত একটি ডিম যুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
উৎসবমুখর পরিবেশে বিতরণ:
কেআইবি প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে এতিমখানার শিশু, পথশিশু ও স্থানীয় দরিদ্র মানুষের সমাগম ঘটে। আয়োজকরা পরম মমতায় শিশুদের হাতে গরম সেদ্ধ ডিম তুলে দেন। ডিম পেয়ে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মুখে আনন্দের হাসি ফুটে ওঠে।
নিয়মিত কর্মসূচির অঙ্গীকার:
অনুষ্ঠানের আয়োজকরা জানান, প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং প্রান্তিক জনগণের পুষ্টিনিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রতি বছরই ডিম দিবসে এ ধরনের জনকল্যাণমুখী কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ উদ্যোগ অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।
বিশ্ব ডিম দিবসের ইতিহাস ও তাৎপর্য:
উল্লেখ্য, মানবদেহে পুষ্টির চাহিদা মেটাতে ডিমের ভূমিকা ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতি বছর অক্টোবরের দ্বিতীয় শুক্রবারে ‘বিশ্ব ডিম দিবস’ পালিত হয়। বাংলাদেশেও সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে শোভাযাত্রা, সেমিনার, ডিম বিতরণ ও নানা প্রচারণামূলক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি গুরুত্বের সাথে উদযাপিত হচ্ছে।





0 Comments